কম্পিউটার ভাইরাস কি? লক্ষণ, প্রতিরোধ ও উদাহরণ

আজকে এই পোস্টটির মাধ্যমে কম্পিউটার ভাইরাস কি? সে সম্পর্কে কিছু কথা জানতে পারবেন, আপনি যদি এ সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে থাকেন, তবে সম্পূর্ণ পোস্টটি পড়তে থাকুন। 

কম্পিউটার ভাইরাস কি

কম্পিউটার ভাইরাস (computer virus) হল: এক ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রোগ্রাম অথবা ম্যালওয়্যার যেটা কম্পিউটার বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ভিতরে ছড়িয়ে পড়ে ও ডেটা এবং সফটওয়্যারের ক্ষতি করে থাকে।

কম্পিউটার ভাইরাস ক্ষতিকর প্রোগ্রাম যা ডিভাইস অথবা সিস্টেমের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা এবং সফটওয়্যারের ক্ষতি করে থাকে। কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষ্য হল সিস্টেম ব্যাহত করা ও পরিচালন সমস্যা সৃষ্টি করা আবার গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ক্ষতি এবং ফাঁস করা হয়।

এটি একটি এক্সিকিউটেবল হোস্ট ফাইলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, ফাইল খোলা ও ভাইরাসের কোডগুলো কার্যকর হয়। পরবর্তীতে এবং কোডটি নেটওয়ার্ক, ড্রাইভ আবার ফাইল-শেয়ারিং প্রোগ্রামটি আবার ইত্যাদির মাধ্যমে সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়ে থাকে।

ভাইরাস (Virus) শব্দটির পূর্ণরুপ Vital Information Resources Under seize, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসমূহ বাজেয়াপ্ত করা যায়। গবেষক ফ্রেডরিক কোহেন সর্বপ্রথম ভাইরাসের নামকরণ করেছিলেন।

কম্পিউটার ভাইরাসের নাম

বর্তমানে লক্ষ লক্ষ কম্পিউটার ভাইরাস আছে। এদের মধ্যে জনপ্রিয় কম্পিউটার ভাইরাসের মধ্যে আছে:

# মেলিসা (Melissa)

# এস কিউ এল স্ল্যামার (SQL Slammer)

# নিমডা (Nimda)

# দ্য ক্লেজ ভাইরাস (The Klez Virus)

# আইলাভইউ (ILOVEYOU)

# মাই-ডুম (MyDoom)

# স্টর্ম ওয়ার্ম (Storm Worm)

# ক্রিপ্টোলকার (Cryptolocker)

# কনফিকার (Conficker)

# কোড রেড (Code Red)

# স্টাক্সনেট (Stuxnet)

# মরিস ওয়ার্ম (Morris Worm)

# টিনবা  (Tinba)

কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ

কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার উদাহরণ যেমন,

পপআপ উইন্ডো:  বিজ্ঞাপন (অ্যাডওয়্যার) আবার ক্ষতিকারক ওয়েবসাইটের লিঙ্কও পপআপ উইন্ডো।

ওয়েব ব্রাউজারে হোম পেজ পরিবর্তন: ওয়েব ব্রাউজার নিজ থেকেই হোম পেজ পরিবর্তন হয়ে থাকে।

সিস্টেম ক্রাশ করা: কম্পিউটার প্রায়ই ক্র্যাশ হয়, আবার মেমরি ফুরিয়ে যায়। নিজের ফাইল খোলা এবং অস্বাভাবিক ত্রুটি বার্তা প্রদর্শন করা অথবা এলোমেলো কী ক্লিক করা।

কর্মক্ষমতা ধীর হওয়া: কম্পিউটার হঠাৎ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক ধীর গতিতে চলা।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন: আপনার অজান্তে অথবা অ্যাকাউন্টে আপনার ইন্টারঅ্যাকশন ছাড়াই পাসওয়ার্ড বদল হওয়া।

প্রোগ্রাম স্ব-নির্বাহী: কম্পিউটার প্রোগ্রামগুলো নিজে বন্ধ হয়ে যায়।

অ্যাকাউন্ট লগ আউট: ভাইরাসের কারণে ব্যবহারকারীকে পরিষেবার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ আউট করতে হয়ে থাকে।

অতিরিক্ত ইমেইল আসা: কম্পিউটার ভাইরাস ইমেইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হ্যাকাররা ম্যালওয়্যার ছড়িয়ে দিতে ও ব্যাপক সাইবার আক্রমণ চালাতে ব্যবহার করতে পারে ইমেইল অ্যাকাউন্ট। 

উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দিলে জানতে হবে যে আপনার কম্পিউটার অথবা ডিভাইস ভাইরাস আবার ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রমণ হয়েছে।

কম্পিউটার ভাইরাস কি
কম্পিউটার ভাইরাস কি

কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়

আপনার কম্পিউটার অথবা যেকোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসকে ভাইরাসের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে নিম্মোক্ত নিয়মগুলো অনুসরণ করতে হবে।

১. বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করা বিশ্বস্ত কম্পিউটারে হলো অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ম্যালওয়্যার আক্রমণ বন্ধ হলে ও কম্পিউটারগুলিকে ভাইরাসে সংক্রামিত হওয়ায় রক্ষা করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই অ্যান্টিভাইরাস নিয়মিত স্ক্যান ও ম্যালওয়্যার সনাক্তকরণ আবার ব্লক করার মাধ্যমে সংক্রমিত হওয়ায় ডিভাইসগুলোকে রক্ষা করে থাকে।

২. পপ-আপ বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করা অবাঞ্ছিত পপ-আপ বিজ্ঞাপনগুলোতে কম্পিউটার ভাইরাস ও ম্যালওয়্যার যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কখনই পপ-আপ বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে যাবেন না, কারণ এটি কম্পিউটারে ভাইরাস ডাউনলোড করে থাকে।

৩. ইমেইল স্ক্যান কম্পিউটার ভাইরাস থেকে ডিভাইসকে রক্ষা করার একটি জনপ্রিয় বিষয় হল সন্দেহজনক ইমেইল ও এটাচিং এড়ানো, যেটা সাধারণত ম্যালওয়্যার গুলো বাদ দিতে ব্যবহৃত হয়। অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইমেইল স্ক্যান করতে হয়।

কম্পিউটার হার্ডওয়্যার কি

৪. ডাউনলোড করা ফাইল স্ক্যান ফাইল-শেয়ারিং প্রোগ্রাম ও কম্পিউটার ভাইরাস ছড়ানো আক্রমণকারীর একটি মাধ্যম। অপরিচিত সাইট থেকে অ্যাপ্লিকেশন এবং গেম অথবা সফ্টওয়্যার ডাউনলোড করা এড়িয়ে চলুন আবার যেকোনো ফাইল-শেয়ারিং প্রোগ্রাম থেকে ডাউনলোড করা এমন ফাইলগুলি সর্বদা স্ক্যান করুন৷

৬. সন্দেহজনক ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলা আপনার ব্রাউজারকে সর্বদা আপডেট রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অপরিচিত অথবা সন্দেহজনক ওয়েবসাইট সমূকে এড়িয়ে চলা অনেক প্রয়োজন।

৭. পাইরেটেড সফ্টওয়্যার ব্যবহার না করা বিনামূল্যে পাইরেটেড সফ্টওয়্যার লোভনীয় হওয়ার পরও , এটি প্রায়শই ম্যালওয়্যার দিয়ে প্যাকেজ করা হয়ে থাকে। শুধুমাত্র অফিসিয়াল সোর্স এর জন্যে সফটওয়্যার ডাউনলোড করতে থাকুন ও পাইরেটেড এবং শেয়ার করা সফটওয়্যার ব্যবহার করা থেকে বিশেষ ভাবে এড়িয়ে চলুন।

আজকে এই পোস্টটির মাধ্যমে কম্পিউটার ভাইরাস কি? সে সম্পর্কে কিছু কথা জানতে পারলেন, আপনার যদি এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকে তবে অবশ্যই শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *